মহাস্থানগড় দুর্গনগরী
সোমপুর মহাবিহার
ষাটগম্বুজ মসজিদ
পানাম নগর স্থাপত্য
পুণ্ড্রবর্ধনের প্রাচীন রাজধানী করতোয়া নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকের দুর্গপ্রাচীর ও মৌর্য শিলালিপি প্রাচীন নগর পরিকল্পনার সাক্ষ্য বহন করে।
অষ্টম শতকের পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম আবাসিক শিক্ষাকেন্দ্র ছিল। কেন্দ্রীয় মন্দিরের পিরামিড সদৃশ লাল ইটের স্তূপ আজও স্থাপত্যের বিস্ময়।
পঞ্চদশ শতকে সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে উলুগ খান জাহান খলিফাতাবাদ নগরী পত্তন করেন। তুঘলকি রীতির পোড়ামাটির অলংকরণ ও পাথরের স্তম্ভের মেলবন্ধন অনন্য।
সোনারগাঁওয়ে উনিশ শতকের ঔপনিবেশিক রীতির দোতলা সারিবদ্ধ অট্টালিকা ও ঝুলন্ত বারান্দা বাংলার প্রাচীন মসলিন বাণিজ্য ও সুপ্রাচীন ঐশ্বর্যের প্রতীক।
বিশ্ব ঐতিহ্যের গৌরব ও দায়বদ্ধতা
ইউনেস্কো স্বীকৃত পাহাড়পুর ও বাগেরহাটের ঐতিহাসিক স্মারকসমূহ কেবল জাতীয় অহংকার নয়, দক্ষিণ এশীয় স্থাপত্য বিবর্তনের অমূল্য অধ্যায়। প্রাচীন নিকাশী ব্যবস্থা, টেরাকোটা ফলক এবং পোড়ামাটির গাথুনি সংরক্ষণ করতে আধুনিক প্রকৌশল ও ঐতিহ্যগত প্রযুক্তির গভীর মেলবন্ধন প্রয়োজন।
ঋতুভেদে আর্দ্রতা বৃদ্ধি ও ভূগর্ভস্থ লবণাক্ততা প্রাচীন ইটের স্থায়িত্বের ওপর বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করে। দেশীয় প্রত্নতত্ত্ব গবেষক ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত পদক্ষেপে প্রাচীন বাংলার এই কারুকাজ অবিকল টিকিয়ে রাখার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শনের দায়িত্বশীল আচরণ
প্রত্নতাত্ত্বিক কাঠামোর গায়ে স্পর্শ না করা, ফলকচিত্র অক্ষত রাখা এবং নির্ধারিত পথ ব্যবহার করে বাংলার অমূল্য অতীত সুরক্ষায় অংশ নিন।


